শিশু আসিফার ধর্ষণের ভিডিও যখন আগ্রহের শীর্ষে

লিড নিউজ সারাবিশ্ব
কয়েকদিন আগেই ভারতে ধর্ষণের শিকার হয় আসিফা বানু নামের আট বছর বয়সী এক শিশুর। মেয়েটিকে ৮ দিন মন্দিরে আটকে রেখে ক্রমাগত ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ করতে করতে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। সবাই মিলে একত্রে ধর্ষণ করেছে শিশুটিকে, যে তালিকায় একজন পুলিশ অফিসারও আছে।
নিজেদের ইচ্ছা মিটে গেলে বন্ধুকে ফোন করে ডাকা হয়েছে ‘কামের জ্বালা’ মেটানোর ইচ্ছা থাকলে যেন এখনই চলে আসে। এমনকি মেরে ফেলার আগ মুহূর্তেও সেই পুলিশ অফিসার ধর্ষণ করেছে শিশুটিকে।
আসিফার মামলার বিস্তারিত যারা পড়েছেন, তারা জানেন, সহ্য হয় না পড়তে গেলে, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা হয় শুধু। এত ছোট একটা বাচ্চা কীভাবে এই অত্যাচার সহ্য করেছে? না জানি কীভাবে কেঁদেছে, কীভাবে কষ্ট পেয়েছে!
জানোয়ারগুলো আঁচড়ে, কামড়ে শেষ করেছে, শিশুটার এটুকু শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। সে হয়তো বুঝতেও পারেনি কী হচ্ছে, মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদছিল শুধু। এসব চিন্তা করতে থাকলে পাগল পাগল লাগে। আমি একটা নিউজে পড়েছিলাম, মেয়েটির শরীরে নাকি ৮০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে… ৮০টি! এইটুকু একটা শরীরে ৮০টি আঘাত ওরা কোথায় করেছে?
এই লেখার কারণ কিছুক্ষণ আগের কয়েকটা সংবাদ। এগুলো পড়ে জানা গেছে, এই মুহূর্তে ভারতের মানুষ পর্ন সাইটগুলোতে সবচেয়ে বেশি যার ভিডিও দেখতে চাইছে, সে হলো ধর্ষণের শিকার শিশু আসিফা। টপ সার্চ ট্রেন্ডে আসিফাকে সার্চ করা ছাড়িয়ে গেছে শীর্ষস্থানীয় বলিউড সেলিব্রেটি ও পর্ন স্টারদেরও। হ্যাঁ, ভয়ানকভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা মেয়েটির পর্ন ভিডিও দেখার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে এক শ্রেণির মানুষ।
পর্ন… পর্ন… পর্ন। এই পর্ন সবকিছু খেয়ে ফেলেছে… সবকিছু… সবকিছু। জানোয়ারের মতো কিছু নিম্ন রুচির মানুষ পর্ন দেখে, ধরে নেয় জগতের সব নারীই পর্ন ছবির মতো, শারীরিক সম্পর্কের জন্য মুখিয়ে থাকে। এরা পর্ন দেখে, উত্তেজিত হয়, আর সেই উত্তেজনা মেটানোর জন্য নারী-শিশু যাকেই পায়, তাকেই ধর্ষণ করে।
সংসার, দাম্পত্য, বিশ্বাস, সম্পর্ক, প্রেম… কিছু বাদ যায়নি পর্নের থাবা থেকে। কিছু না। আমি একসময় রিলেশনশিপ কাউন্সিলিং করতাম। যেসব আপুরা কথা বলতে আসতেন দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে, তাদের অন্তত ৭০ ভাগের অভিযোগ ছিল, স্বামী পর্ন আসক্ত। স্ত্রীকে পর্ন তারকার সাথে মেলাতে না পেরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, বউয়ের চাইতে ফোন বেশি আপন। কেউ কেউ বাড়ির কাজের মেয়েদের মাঝে ভেরিয়েশন খোঁজে, কেউ অন্য কোনো আত্মীয় বা যৌনকর্মীদের কাছে।
এক দম্পতি একবার এসেছিল। তারা জানিয়েছিল, পর্ন দেখা ছাড়া তাদের মাঝে নাকি স্বাভাবিক কোনো যৌন সম্পর্ক হয় না। তারা স্বাভাবিক অবস্থায় পরস্পরের প্রতি আগ্রহ বোধ করে না। এখন তারা নিজেদের মাঝে আরও একজন মানুষ আনতে চাইছে, এতে নাকি যৌন জীবনে উত্তেজনা বাড়বে।
একবার একটি মেয়ে আমার সাথে কথা বলতে এসেছিল। তার বাবা… আবার বলছি, তার বাবা মেয়েকে নিয়ে শিশুদের পর্ন দেখত এবং দেখার সময়ে মেয়ের শরীরের নানা অঙ্গে হাত দিত। এখন মেয়েটা বড় হয়েছে, কী ঘটত, সেটা বুঝতে পেরেছে। মেয়েটা অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। ভয়ানক কষ্টের সেই জীবন, আমার বর্ণনা করার ভাষা নাই।
একটি ছেলে একবার আমাকে চিঠি লিখেছিল, তার বড় ভাই শিশুদের পর্ন দেখত, আস্তে আস্তে ছোট ভাইকেও আসক্ত বানিয়ে ফেলে। দেখতে দেখতে অবস্থা এমন হয়েছে যে, দুই ভাইয়ের কেউই এখন আর কোনো নারীকে ভালো মনে করতে পারে না। তাদের চোখে দুনিয়ার সকল নারীই ‘কামুক’, যৌনতার জন্য অধীর হয়ে আছে। প্রথমে না না বলবে, কিন্তু পরে রাজি হবে। এমনকি এই দুজন এটাও মনে করে যে, ধর্ষণের সময় নারীরা চিৎকার করে কেবল নাটক করার জন্য, আসলে ধর্ষণে তারা মজা পায়। হ্যাঁ, এটা অসংখ্য পুরুষ বিশ্বাস করে যে ধর্ষণে মেয়েরা আনন্দ পায়!
আমি জানি, আপনারা অনেকে অনেক কথা বলবেন। যেমন পর্ন দেখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, দেখলে অমুক-তমুক উপকার হয়, পর্ন দেখা ভারী পৌরুষের লক্ষণ, হ্যান হয়, ত্যান হয়। আজকাল কিছু নির্বোধ তরুণ খুব বুক ফুলিয়ে বলে যে, তারা পর্ন দেখে। যেন বিরাট একটা কাজ করে ফেলেছে।
আমি শুধু একটা কথা বলব-আপনারা অভিশপ্ত, অভিশপ্ত, অভিশপ্ত। পর্ন দেখার পক্ষে আপনারা যতই সাফাই গান, আসলে মনে মনে প্রত্যেকে এক-একজন ধর্ষক। সুযোগ পেলেই হাতে-কলমে দেখিয়ে দেবেন, সুযোগটা স্রেফ পাচ্ছেন না বলে।
মনে মনে সব নারীকেই আপনারা এক মনে করেন… যৌনতার জন্য তৈরি একটা শরীর, যার কোনো আবেগ-অনুভূতি-ব্যথা কিছুই নেই। আপনারা সেসব মানুষ, যারা মনে করেন নারীমাত্রই আপনাকে নিজের শরীর দিতে বাধ্য। আপনারা ভাবেন, নারীরা ধর্ষণে খুব আনন্দ পায়, কেবল একটু নাটক করে আরকি!
আমি শুধু একটা কথাই বলব-আপনারা অভিশপ্ত, অভিশপ্ত, অভিশপ্ত।
দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই অভিশপ্ত হওয়াটা আপনারা নিজেরাই বেছে নিয়েছেন। সত্যিকারের পুরুষ কখনো জোর করে না, সত্যিকারের পুরুষ কখনো ধর্ষণ করে না। পারেন তো ‘পর্ন আসক্ত ধর্ষক’ থেকে ‘সত্যিকারের পুরুষ’ হয়ে দেখান। পারবেন কি?
সুত্র: প্রিয়্.কম
আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *