সিলেট সিটি নির্বাচন: চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে আওয়ামী লীগ

জাতীয় সিলেটের সংবাদ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবার আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে। গেল নির্বাচনে বিএনপির কাছে পরাজয় বরণের পর আওয়ামী লীগ তাদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এজন্য একক প্রার্থী মাঠে দিয়ে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে নামবে। ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রীর তরফ থেকে এ সম্পর্কে নির্দেশনা পেয়েছেন সিলেটের সিনিয়র নেতারা। সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পৌরসভার আমল থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন পর্যন্ত নগরের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। কামরান ১৯৯৫ সাল থেকে পৌর সভার চেয়ারম্যান থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিলেট নগরের কর্তৃত্ব ধরে রাখেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুর্দিনেও মেয়রকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে সিলেটে মাঠ দখলে অনেকটা সুবিধা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে সিটি করপোরেশন নিয়ে নির্ভার ছিল আওয়ামী লীগ। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ভোটের মাঠের জনপ্রিয় কামরান বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজয় বরণ করলে আওয়ামী লীগ তার দীর্ঘ দিনের কর্তৃত্ব হারায়। ওই নির্বাচন বিশ্লেষণকালে পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিলেন- কামরানের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল দলের ভেতরে একতা না থাকা। বাইরে সবাই কামরানের পক্ষে মাঠে নামলেও ভেতরে ভেতরে অনেক নেতাই নীরব ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগবিরোধী হেফাজত ইস্যুটিও তখন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সংখ্যালঘু ভোটার ছিল কামরানের ভোট ব্যাংক। কিন্তু নির্বাচনের আগে কামরানের ওই ভোট ব্যাংকেও ফাটল ধরে। ফলে কামরানের পরাজয় খুব সহজে ত্বরান্বিত হয়। সিটি নির্বাচনে কামরানের পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের ভেতরেও এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে- নির্বাচনের পরপরই দলের সেই ঐক্য পুনরায় ফিরে এসেছে। এবার আর হেফাজতি ঝড় নেই। সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যেও সমন্বয় চলে এসেছে। আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরানই- বিষয়টি ইতিমধ্যে অনেকখানি পরিষ্কার হয়েছে। কামরানকে দিয়েই আওয়ামী লীগ তার হারানো চেয়ার ফিরে পেতে মরিয়া। তবে- এখনো হাল ছাড়েননি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। এই মুহূর্তে সিলেট আওয়ামী লীগে কামরানও সিনিয়র নেতা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে সিলেট আওয়ামী লীগের অভিভাবকও তিনি। ফলে নিজের পরিকল্পনা নিজেই সাজিয়ে ভোটের মাঠে নামতে হবে তাকে। তবে মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ সিটি নির্বাচনে জোট বাঁধতে চাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গে। আসাদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে মিসবাহ সিরাজের সহযোগিতা পাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো। আর মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম আওয়ামী লীগের পদবিধারী কেউ না। তিনি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমের সম্পর্ক ভালো। অনেকেই তাকে মন্ত্রী বলয়ের লোক হিসেবে চিনেন। মুহিতের সু-নজর নিয়ে মাহি সেলিমও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটি পেতে লবিং চালাচ্ছেন। তবে তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। পুরাতন নেতারা মাহি সেলিমের এই চাওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না। সিলেট আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের একাধিক বৈঠকের শেষে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর কাড়েন সিলেটের নেতারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেই কামরানকে প্রস্তুতি শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সিলেটের নেতাদেরও কামরানের পক্ষে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গেলো নির্বাচনে পরাজয় বরণ করলেও সিলেট নগরীর ছায়া মেয়র হিসেবে কামরান সবসময় সরব ছিলেন। তিনি নগরবাসীকে তার মতো করে আগলে রেখেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকেন তিনি। পাশাপাশি সিলেট নগরীর ২৭ ওয়ার্ডেও তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে হৃদ্ধিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। নিজে থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়েছেন। হেফাজতের ভোটেও কামরানের জনপ্রিয়তা রয়েছে। গেলো কয়েক মাস ধরে কামরান সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে গতি বাড়িয়েছেন। নগরের ২৭ ওয়ার্ডের প্রায় সবক’টিতে তিনি একাধিবার সফর করেছেন। এমনকি পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত ছুটে গেছেন। পাশাপাশি দলকেও সুসংগঠিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। কামরান জানিয়েছেন- তিনি নগরবাসীর সেবা অতীতে করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন। যতদিন বাঁচবেন ততদিন এই নগরের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। এখনো প্রয়োজনে যারা তার কাছে আসেন তিনি সাধ্যমতো তাদের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালান। তিনি বলেন- সিলেট নগরীর পাড়া-মহল্লায় সামাজিক বন্ধন অটুট। উন্নয়ন নিয়ে জনগণ সোচ্চার রয়েছেন। পাশাপাশি শান্তির ও স্বস্তির নগরী চান সবাই। দীর্ঘ দিন যেহেতু তিনি সেবায় ছিলেন, সেকারণে এখনো সেবা করে যাচ্ছেন। ভোটের জন্য নয়, জনগণের ভালোবাসায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মাঠে থাকা আসাদ উদ্দিন আহমদও কৌশলী। তিনি কৌশলে সমালোচনা করছেন সাবেক মেয়র কামরানেরও। আর বর্তমান মেয়রকে তো ছাড় দিচ্ছেন না। নগরীর হকার, যানজট সহ নানা সমস্যা ভোটের রাজনীতিতে আবর্তিত হচ্ছে বলে বার বার বলে যাচ্ছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *