চতুর্থ স্প্যানে দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ৬০০ মিটার

জাতীয়

পদ্মাসেতুর চতুর্থ স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) ‘৭ই’ ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ৬শ’ মিটার কাঠামো।

এর আগে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ নম্বর পিলারে তিনটি ধূসর রংয়ের স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ৪৫০ মিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে সেতুতে।

রোববার (১৩ মে) সকালে স্প্যানটি বসানো হয়। এর আগে শনিবার (১২ মে) বিকেল ৩টার দিকে জাজিরা প্রান্তের ৪২ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায় স্প্যান বহনকারী ক্রেন।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬শ’ টন ধারণ ক্ষমতার “তিয়ান ই” ক্রেনে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি আনা হয়।

এরপর পঞ্চম স্প্যানটি জোড়া দেওয়া গেলে প্রথমবারের মতো জাজিরা পাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে পদ্মাসেতু।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ মজুমদার শাওন বলেন, সকাল ৬টা থেকেই স্প্যান ওঠানোর কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পিলারের কলামের ওপর বসে গেছে স্প্যান। বেয়ারিং পেডে বসানোর কার্যক্রম চলছে। স্থায়ীভাবে বসতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, তিনটি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সকাল থেকে পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের সামনে পজিশন অনুযায়ী আনা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে পিলারের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে। তবে স্থায়ীভাবে বসতে কিছুটা সময় লাগবে। এছাড়া স্প্যান ওঠানোর আগে ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়। এসময় সাময়িক সময়ের জন্য নৌরুটে নৌযানগুলোর গতি কমিয়ে চলাচল করতে বলা হয়।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশি বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে বসানো হয় ‘৭ই’ স্প্যানটিকে। বর্তমানে অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর রাখা হয়েছে। ওয়েল্ডিং করে তৃতীয় স্প্যানের সঙ্গে জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানান জানান তিনি।

শিগগির ৫ম স্প্যান অর্থাৎ ৭ এফ স্প্যান ৪১ ও ৪ নম্বর  পিলারের ওপর বসানো হবে। পঞ্চম স্প্যানটি বসানো গেলে প্রথম জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত হবে পদ্মাসেতু। সামনের দিনগুলোতে পদ্মা নদীতে বাড়ছে স্রোত ও ঝড়ের পূর্বাভাস। জাজিরা প্রান্তে চ্যানেল কেটে সেতুর কাজ করা গেলেও মাওয়া প্রান্তে এটি সম্ভব নয়। মাওয়া প্রান্তে ২২টি পিলারের নকশা জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। তবে নকশার সমাধান হওয়ায় কাজ চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে ২,৩,৫ নম্বর পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মাওয়া প্রান্তে সেতুর কাজ সম্ভব না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। সেতুটির নির্মাণ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি যুক্ত হবে রাজধানী ঢাকা।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর ১১ মার্চ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। এর ২ মাস পর রোববার (১৩ মে) সকাল পৌনে ৮টার দিকে দেশি বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের চেষ্টায় বসলো ধূসর রঙের চতুর্থ স্প্যানটি। পদ্মার পাড়ের মানুষ ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের যাত্রীরা স্প্যান বসানোর দৃশ্য দেখে আনন্দিত।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *